নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্দিরগঞ্জ) সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অধ্যাপক রেজাউল করিমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অধ্যাপক রেজাউল করিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অধ্যাপক রেজাউল করিম বিএনপির একজন পরিচিত ও দীর্ঘদিনের রাজনীতিক। তিনি বিএনপি সরকারের সময়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। দলীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি তিনি একসময় বিএনপির সংস্কারপন্থী ধারার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
বহিষ্কারের আগ পর্যন্ত অধ্যাপক রেজাউল করিম বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বহিষ্কারের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জেলাটির পাঁচটি আসনে মোট ৪৭ জন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যে সব প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রচার-প্রচারণাও শুরু হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক রেজাউল করিম নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এবং এর ফলে বহিষ্কারের ঘটনা আসন্ন নির্বাচনে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি এখন ভোটারদের মধ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।