শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

বাতেনের স্বপ্ন ছোঁয়ার গল্প

নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি / ৫১ বার
আপডেট : শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩
বাতেনের_স্বপ্ন_ছোঁয়ার_গল্প

নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার মাঝিকাড়া গ্রামের সন্তান উদ্যোক্তা আব্দুল বাতেন সুমন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। এলাকায় সবাই চিনেন বাতেন নামে। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা শেষে বিএসসি করেছেন এআইইউবিতে। পড়াশোনা শেষে কিছু দিন বেসরকারি একটি ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি করলেও এলাকায় এসে পরিচিতজনদের দালান-কোঠা ডিজাইন করে বেশ সুনাম কাড়েন। তাতে যেন মন ভরছিলনা তার। চাকরির বাঁধা ধরা নিয়ম ও একগুঁয়েমি কাজে নিজের সৃষ্টিশীলতা যেনো তার মুষড়ে হারিয়ে যাচ্ছিল। অল্প পূঁজি নিয়ে ছোট ভাইদের সাথে নিয়ে নিজ এলাকার নারায়ণপুরে গড়ে তুলেন শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্টিল-লোহায় নির্মিত যন্ত্রপাতি নির্মানের কারখানা। প্রথমে ছোট আকারে ইন্ডাস্ট্রিয়াল মালামালার যন্ত্রাংশ তৈরি করতেন । অনেকটা ধীরে ধীরে হ্যাভিওয়েট মেশিনে হাত দেন তিনি। সিমেন্ট- বালি-পাথর দিয়ে সহজেই বানানো যায় এমন টাইলস ও ইটের মেশিন তৈরি করে নিজেই আরেকটা কারখানা খুলেন একই এলাকার জল্লা নামক গ্রামের কনিকাড়া ব্রীজ সংলগ্ন বুড়ী নদীর তীরে। সেখানে বানানো ইট ও সৌন্দর্যবর্ধক ব্লক, টাইলস দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করা শুরু করেন তিনি। এরপর যেনো আর পিছনে তাকানোর সময় নেই। বাংলাদেশসহ বিদেশের মাটিতেও তার কারখানায় নির্মিত যন্ত্রপাতি বিক্রয় ও বাইয়ার ধরতে দেশের রাজধানী ঢাকায় নেন অফিস। এখন পুরোদমে ইট, টাইলস তৈরির মেশিন বানাচ্ছেন তরুন উদ্যোক্তা বাতেন। স্বপ্ন বুনছেন তার তৈরি মেশিন বিদেশসহ দেশের সবর্ত্র ছড়িয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে ভারত ও নেপালে বিক্রয় করছেন তার কারখানায় নির্মিত যন্ত্রপাতি ও মেশিন। বাংলাদেশ সরকারও উদ্যোগ নিয়েছেন ২০৩০ সালের মধ্যে ইট ভাটায় কাঠ, কয়লা, গ্যাসে পুড়ানো মাটির ইট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে। দেশে ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও নগরায়নের ফলে ইট ভাটায় তৈরিকৃত ইটের চাহিদা বাড়ায় বাড়ছে কার্বন নিঃসরনের মাত্রাও। এছাড়া বায়ু দূষণ ও অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের প্রথম কারন পুড়া মাটির ইটভাটা গুলো। কয়লার সংকট, গাছপালা কেটে বন উজার, ফসলি জমি নষ্ট হওয়াসহ নানা ক্ষতিকর প্রভাবে পড়ছে। সে লক্ষ্যে পুড়া মাটির ইটের বিকল্প হিসেবে সিমেন্ট, বালি, পাথর দিয়ে নির্মিত ইটের প্রতি ঝুঁকছে সরকার।

বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলা ও কার্বনডাই-অক্সাইড গ্যাসের অতিরিক্ত মাত্রা কমিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। বর্তমান সরকার সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে পুড়া মাটির ইটের বিকল্প হিসেবে সিমেন্ট, বালি, পাথরে নির্মিত ইট ব্যবহার শুরু করেছে। ধীরে ধীরে প্রচলিত ইট ভাটায় চুল্লী নির্মাণ করে পুড়া মাটির ইটের কারখানা বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে।

বাতেন প্রতিদিনের বার্তাকে জানান, প্রথম দিকে ভয় লাগতো, কম পূঁজি দিয়ে বিশালকার মেশিনে তৈরির পর যদি কাস্টমারের পছন্দ না হয় তাহলে বিপদে পড়তে হবে। তাছাড়া আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের পরিবারসহ ব্যাংকও লোন দিতে চায় না। তাই নিজের বানানো মেশিনে নিজেই তৈরি করতে থাকি ইট, টাইলস। অনেকটা পরীক্ষামূলক। এটা অনেক সাহসের ব্যাপার ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। নিজের আত্মবিশ্বাস ও প্রজ্ঞায় এত দূর এগিয়ে এসেছি। এখন যে কোন মেশিনের হুবহু নির্মান করতে পারি আমাদের কারখানায়। যেগুলো জার্মান, জাপান, চীন, ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করতে খরচ লাগে ১ কোটি টাকা সেখানে আমরা ৩৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে করে দিতে পারবো। পাশাপাশি পুরো ১ বছর ফ্রি সার্ভিস সেবাও দিয়ে থাকি। বাতেন আরো জানান, এখন আমাদের দেশে দক্ষ জনবল আছে। তারা যে কাজে অভস্ত্য তা খুঁজে বেড়ায়। বিশেষ করে বিদেশ ফেরত অনেকেই আমার এখানে এখন চাকরি করে। তাদের কারো কারো ২০-২৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। যোগ্যতা অনুসারে মোটামুটি ভালো বেতন দিতে পারলে তারা দেশে থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আরাম-আয়েসে আনন্দ নিয়ে কাজ করেন। তারাই আমার মূল শক্তি। শহরে কারখানা না খুলে নবীনগর উপজেলার মতো মফস্বলে এসে কারখানার খোলার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি আগেই বলেছি, এত পূঁজি ছিল না আমার। তাছাড়া এখন ব্যবসা সব জায়গায় থেকেই করা যায়। সুবিধা অনেক বেশি। দেশে যে পরিমানে উন্নয়ন হয়েছে বিশেষ করে রাস্তা-ঘাট, সেতু ও প্রযুক্তির তাতে আপনি যে কোন জায়গায় থেকে ব্যবসা করতে পারবেন। আগে আমাদের এলাকা থেকে ঢাকায় যেতে হতো কুমিল্লা কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ঘুরে। ৫০ থেকে ১৫০ মাইলের পথ অযথা ঘুরতে হতো। এতে সময় লাগতো অনেক। এখন রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন ও নতুন রাস্তা নির্মানে সময় লাগে কম। ব্যবসায় যোগাযোগ ও পরিবহনের সময় অনেক ফ্যাক্ট। আর অনলাইনের কারনে দেশের সবর্ত্র প্রচারসহ বিদেশেও যোগাযোগ অনেক সহজ। আব্দুল বাতেন সুমনের হাইটেক ইঞ্জিনিয়ার এবং জেনুইন মটর করপোরেশন থেকে যন্ত্রাংশ কিংবা মেশিন কিনতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন ঢাকার ওয়ারীর হাটখোলা রোডের ফকিরবানু ভবনস্থ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ার এবং জেনুইন মটর করপোরেশনে কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নারায়ণপুর ওর্য়াকসপে।


এ জাতীয় আরো সংবাদ