বদরগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

রংপুর

বদরগঞ্জ, রংপুর প্রতিনিধি.

রংপুরের বদরগঞ্জে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিয়ে ৯ বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। বলাৎকারের ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি হলকার ঘর হাফেজিয়া মাদ্রাসায়। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ওই শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ গতকাল বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর জেলহাজতে পাঠায়। ইসমাইল হোসেন রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের হল্লাইপাড়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর পুত্র।

শিশুর পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার মাদ্রাসার শিশুদের দিয়ে সড়কের মোড় ও বিভিন্ন স্থান থেকে মাদ্রাসার নামে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। দিন শেষে শিশুটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। রাতের খাবার খেয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিশুটি শুয়ে পড়েন। এসময় শিক্ষক ইসমাইল হোসেন শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার অফিস কক্ষে যাওয়া জন্য ডাকেন। শিশুটি হুজুরকে অনুরোধ করে বলেন, হুজুর আজ আমি টাকা সংগ্রহ করেছি। এ কারণে ক্লান্ত আছি। শিশুটি অপর এক শিশুর নাম বলে তাকে ডেকে নিয়ে যেতে বলেন। এর পরেও ইসমাইল হোসেন ওই শিশুকে তার অফিস কক্ষে নিয়ে শারিরীকভাবে নাজেহাল করেন। পরে শিশুটিকে তার কক্ষে পাঠিয়ে দেয় ইসমাইল। মঙ্গলবার সকালে শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে গিয়ে তার মাকে জানালে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরে শিশুটির অভিভাবকসহ স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসা কমিটির কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করলে বিষয়টি গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মাদ্রাসায় অবস্থান নেন। এসময় পুলিশ খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে জনতার রোষানল থেকে ইসমাইল হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ওই রাতে ইসমাইল হোসেনের নামে মামলা করেন। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এটা ষড়যন্ত্র। মাদ্রাসা এলাকার একটি পক্ষ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমি নির্দোষ।’ মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বলেন, শিশুটির অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের আলোচনা চলছিল। এসময় পুলিশ ওই শিক্ষককে ধরে থানায় নিয়ে যায়। তবে আমি যতদুর জানি ঘটনাটা সত্য নয়। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি জানার পর মাদ্রাসা থেকে হুজুরকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শিশুটির বাবা থানায় নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ করেন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *