চামেলীকে ভারতে নেয়া হচ্ছে

জাতীয়

বার্তা ডেস্ক.

সুষ্ঠু চিকিৎসার অভাবে যখন পুরো জীবনে অন্ধকার নেমে আসার অবস্থা তখন প্রধানমন্ত্রী সকল দায়িত্ব নিয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নেয়া হয় নারী ক্রিকেটার চামেলীকে। ভর্তি করা হয় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে এক এক করে কেটে গেছে ১৭ দিন। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে শুরু হয় চামেলীর চিকিৎসা। সিদ্ধান্ত হয় দেশেই হবে তার চিকিৎসা। কিন্ত দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা রোগী দাবি করেন দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য।

অবশেষে সরকারি খরচে চিকিৎসা ব্যবস্থা হচ্ছে দেশের বাইরে। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভারতের ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে কথা হয় লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়া ও মেরুদণ্ডে হাড়ের ব্যথা নিয়ে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের ২১৬নং কেবিনে চিকিৎসাধীন চামেলীর সাথে।

তাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে এই প্রতিবেদককে চামেলী জানান, ভারতের ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন চিকিৎসার জন্য উড়াল দিতে পারেন চামেলী। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃপক্ষ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও রাজশাহীর পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এ জন্য তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

চামেলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নেবার পর প্রথম কয়েকদিন তাকে নিয়ে সরগরম ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রধানের কার্যালয়েও। কিন্ত গেলো দু’সপ্তাহ তার কঠিন সময় কেটেছে। হঠাৎ করে কেবল কেবিন ভাড়া ব্যতীত চিকিৎসাসহ সকল খরচ তাকে বহন করতে হয়েছে। এ নিয়ে তিনি দুর্ভাবনায় পড়েন। চারিদিকে অন্ধকার দেখতে শুরু করেন। ভাবনায় ভাবনায় আরো রুগ্ন হয়ে পড়ছিলেন ক্রমশই। এমন পরিস্থিতিতে আবারো তার পাশে দাঁড়ায় সংবাদ মাধ্যম। নড়েচড়ে উঠেন সকলে।

মঙ্গলবার বিসিবি কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচের সকল ভাউচার নিয়ে গেছেন টাকা ফিরিয়ে দেবার জন্য এবং চলমান দিনের সকল খরচ তারা পরিশোধের আশ্বাসও দিয়েছেন। তিনি আবার আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন সুষ্ঠু চিকিৎসা হবে বলে। চিকিৎসা শেষে ফিরে আসতে পারবেন স্বাভাবিক জীবনে।

চামেলী জানান, প্রায় আট বছর আগে জিম করার সময় মাজায় ব্যথা পান। এর পর থেকে মাঝে মধ্যেই সে ব্যথা অনুভব করতেন। ওষুধ খেয়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করে আনসারের চাকরি করতেন। দেড় বছর আগে ঢাকা থেকে বদলি নিয়ে রাজশাহীতে যান।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী আনসার অফিসে কাজ করার সময় ডান হাত ও পায়ে কাপুনি উঠে পড়ে যান। সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেটিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মুনজুর রহমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দেন তিনি। তাকে শিগগিরই দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে সার্জারির পরামর্শ দেন চিকিৎসক। তবে ওষুধ খাওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনদিন পর থেকে আবার অফিস করেন।

গত ৩ অক্টোবর অফিসে কাজ করার সময় আবার পড়ে যান। এর পর থেকে তার ঠাঁই হয় বিছানায়। ক্রমশই তার ডান পাশ অবশ হতে থাকে।

এই অলরাউন্ডার জানান, অন ডে স্ট্যাটাস সামনে রেখে দলের প্রস্তুতি চলছিল ২০১১ সালে। ফিল্ডিং প্রশিক্ষণ চলাকালীন পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে আবাহনী ক্রীড়া চক্র মাঠে প্রশিক্ষণে গিয়েও আরেক দফা আঘাত পান। এই ইনজুরি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়ে দয়ে। পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে নিজের চিকিৎসা করাতে পারেননি। আশা করছেন, সুষ্ঠু চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে আগামীতে আবারো মাঠে ফিরতে পারবেন এবং দেশের হয়ে ভাল কিছু করবেন।

বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের হয়ে ১৯৯৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মাঠ মাতিয়ে বেড়িয়েছেন চামেলী খাতুন। ২০১০ সালের এশিয়া কাপের রানার আপ হওয়া দলের হয়ে মাঠ মাতান এই দাপুটে ক্রিকেটার। এর বাইরে ঢাকা বিভাগে খেলেছেন টানা। দুই মৌসুম শেখ জামালের ক্যাপ্টেন হিসেবে সামনে থেকে টেনে নিয়ে গেছেন দলকে। এখন তিনিই পরাস্ত ইনজুরিতে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *