সুন্দরগঞ্জে বালু ব্যবসায়ীদের দখলে দুই খেয়াঘাট : সাধারণের দুর্ভোগ

জাতীয় রংপুর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি.

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বালু ব্যবসায়ীদের দখলে তিস্তা নদী বেষ্ঠিত কছিম বাজার ও মোশারফ নামের ২ খেয়াঘাট। বালু বহনকারী ট্রাক্টর ও ট্রলির অবাধ যাতায়াতে রাস্তা ঘাটের বেহাল দশ। বালুবাহী ট্রলারের বিকট শব্দ আর ভাঙ্গনের আশংকায় চরমে উঠেছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫নং কাপাসিয়া ইউনিয়ন ঘেষে প্রবাহিত প্রমত্তা তিস্তা নদী। চারপাশ পানিতে থই থই। নদীতে ঢেউ খেলছে বন্যার ঘোলাটে পানি। অনেক জায়গায় ভেঙ্গে গেছে মানুষের বাসস্থান। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে হাহাকার ধ্বনি। ভাঙ্গন কবলিত জনপদের বিপর্যস্ত মানুষ মারাত্মক সংকটকাল অতিক্রম করছে। ঠিক এমনি মুহুর্তে প্রতিবারের ন্যায় এবারো এ ইউনিয়নের নদীর কোল ঘেষে দাড়িয়ে থাকা কছিম বাজার ও মোশারফেরঘাট নামক ২টি ঘাট বালু ব্যবসায়ীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে। এ ঘাট ২টি প্রতিবছরের বন্যায় ভাঙ্গনের কবলে সীমা অতিক্রম করলেও থেমে নেই চরাঞ্চলবাসীদের পারাপাড়। লক্ষ্য করা গেছে, ওয়াপদা বাঁধ থেকে এ ২টি ঘাটে যাতায়াতের রাস্তা ২টি বেহাল দশা। এবারের বন্যায় রাস্তা ২টি বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গিয়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাতায়াতের স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলেছে। এ রাস্তা ২টি দিয়ে যানবাহন চলাচল দূরের কথা পাঁয়ে হেটে যাওয়াও দুষ্কর। রাস্তা ২টি এহেন বহালদশার জন্য এলাকাবাসী বালু বহনকারী ট্রাক্টর ও ট্রলির অভাব চলাচলকেই দায়ী করছেন। তার বলছেন, প্রতিবছর বালু ব্যবসায়ীগণ যৌথকভাবে উদ্যোগ নিয়ে রাস্তা ২টি’র নামমাত্র মেরামত করলেও রক্ষা পাচ্ছেনা প্রতিবছরের বন্যার কবল থেকে এবারো এর বিকল্প নেই। এবারে নদীর বন্যার পানি কমার সাথে সাথে এ ২টি ঘাটে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তারা অন্যান্য বারের ন্যায় এবারো প্রতিযোগিতা মূলক ভাবে ব্যবসায় নেমে পড়েছে। চিলমারীসহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ট্রলারে বালু বহন করে ঘাট ২টি দু’পার্শ্বে পাহাড়সম জমিয়ে তুলছে। ট্রলার হতে মেশিন দ্বারা বালু সরিয়ে নেয়ার সময় মেশিনের বিকট শব্দ আর নির্গত কালো ধোঁয়ায় ঘাট ২টি’র পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে। মেশিনের বিকট শব্দ ঘাট ২টি’র আশে-পাশে বসবাসরত লোকজনের ঘুম হারাম হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঘাটের আশে-পাশে ব্যবসায়ীদের জমিয়ে রাখা বালু হতে নির্গত পানির ¯্রােত। যেভাবে নদীতে বয়ে যাচ্ছে এমন অবস্থার মুখে এ ঘাট ২টি আগামীতে আবারও ভাঙ্গানোর আশংকা করছেন নদীপাড়ের বসবাসরত লোকজন। তারা এও আশংকা করছেন এ রাস্তা ২টি’র উপর দিয়ে বালু বহন করা হলে আগামী বন্যায় এ রাস্তা ২টি নিশ্চিন্ন হয়ে পড়বে। দুর্ভোগের স্বীকার হবে হাজারও পথচারী। ঘাট ২টি আশে-পাশে বসবাসরত নার্গিস বেগম (৪০), জহুর উদ্দিন, সবুজ মিয়া ও ছানাউল জানান প্রতিদিন এ ঘাট ২টিতে ২০-২৫টি ট্রলারের বালু নামানো হচ্ছে। এ সময় ট্রলারের ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে ঘাটে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মসজিদে নামাজ পড়া যাচ্ছে না। তাদের দাবী বালু ব্যবসায়ীদের এ সব অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করা হোক। কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, আমি বালু ব্যবসায়ীদের নিষেধ করেছি, তারা নিষেধ মানছে না। বিভিন্ন মহলসহ দলীয় চাপ আমি কি করব ? তবে বালু ব্যবসায়ীদের এই অপকান্ড বন্ধে উপজেলা প্রশাসন অভিযান অব্যহত রেখেছে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *