রাজারহাটের কৃতি সন্তান মনোনীত হলেন দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কারে

রংপুর

রাজারহাট, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি.

উদ্ভিদ সংরক্ষণ, নদীবিষয়ক গবেষণা ও জীববৈচিত্য সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কলাম লেখক, গবেষক ও শিক্ষক ড.তুহিন ওয়াদুদ।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তরুপল্লবের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কারের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.তুহিন ওয়াদুদকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। তাকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। এই পুরস্কারের মূল্যমান পঞ্চাশ হাজার টাকা। সিটি ব্যাংক এই পুরস্কারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর তরুপল্লবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বরেণ্য নিসর্গী অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ বছর কোভিড-১৯ জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরস্কার অর্পণের আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে সীমিত উপস্থিতিতে কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে পুরস্কারটি প্রদান করা হবে । ড.তুহিন ওয়াদুদ ১৯৭৮ সালের ২৫ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বোতলারপাড়  গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তারপর ২০০৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে ড.তুহিন ওয়াদুদের পেশা জীবনের শুরু। তারপর ২০০৯ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্যতম বৃক্ষপ্রধান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ব্যক্তি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যা¤পাসে প্রায় ৩৫ হাজার বৃক্ষরোপণ করেছেন। সেই ৩৫ হাজার বৃক্ষ এখন গোটা ক্যা¤পাসকে সবুজে মুড়িয়ে রেখেছে। শিক্ষকতা ছাড়াও বৃক্ষপ্রেমী ড. তুহিন ওয়াদুদ দেশের নদী নিয়ে শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে শতাধিক নিবন্ধ লিখেছেন। এ পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের দুই শতাধিক নদী পরিদর্শন করে, নদীর বর্তমান অবস্থার তথ্য সংগ্রহ ও নদীর ছবি তুলেছেন। তিনি নদী নিয়ে রচনা করেছেন  রংপুর অঞ্চলের নদ-নদী শীর্ষক গ্রন্থ। এছাড়াও নদীবিষয়ক সংগঠন “রিভারাইন পিপলের” সক্রিয় পরিচালকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন।বর্তমানে তিনি পোস্ট ডক্টারাল ফেলোশিপ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধীনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ও সাহিত্যে বাংলাদেশের নদ-নদীর প্রভাব বিষয়ে গবেষণা করছেন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *