পাটগ্রামে ৪ সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যু

জাতীয় রংপুর

পাটগ্রাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি.

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের কদুর বাজার এলাকার চার সন্তানের জননী গৃহবধু লাকি বেগমের (৩৫) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। লাকি বেগমের বাবা- মা ও এলাকাবাসির দাবি নির্যাতন, মারডাং করে হত্যার পর লাশ পাশের ঘরের বাঁশের ধর্নায় ঝুলিয়ে রেখে স্বামী, শ্বশুর- শ্বাশুড়ী রাতারাতি পালিয়েছে। জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে উপজেলার ওই এলাকার তবিবর রহমানের ছেলে রাজমিস্ত্রি শাহিনের সাথে লাকি বেগমের বিয়ে হয়। গৃহবধুর বাবা আফতার হোসেন ও মা মালেকা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য মেয়েকে প্রায়ই অমানুসিকভাবে মারপিট করে শাহিন। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার গ্রাম্যসালিশ মেনে মেয়েকে পাঠানো হয়। গত দুই মাস আগে পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ওসমান গনি ও ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মান্নান বিচার- সালিশ করে লাকি বেগমকে তার স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে নির্যাতন আরও বৃদ্ধি পায় বলে তারা দাবি করেন। গত বৃহস্পতিবার দিনে- রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। লাকিকে মারধর ও নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে স্বামী শাহিন, শ্বশুর তবিবর রহমান, শ্বাশুড়ি শাহিদা বেগম গতকাল শুক্রবার সকালের আগে পালিয়ে গেছে। কচুয়ারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লাকি বেগম জানান, আগেরদিন রাতে বাবা- মায়ের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। সকালে মা’কে ঝুলানো অবস্থায় দেখি। একাধিক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, তাদের পরিবারের মধ্যে প্রায় ঝগড়া হত। শাহিন বটি, ছুড়ি নিয়ে লাকিকে ধাওয়া করত। গত বৃহস্পতিবার রাতে আবারও তাদের মধ্যে  ঝগড়া ও মারামারি হয়। লাকি অনেক নির্যাতন সহ্য করে সংসার করছে। সে আত্মহত্যা করার কথা নয়। পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রধান বেলাল বলেন, এলাকার লোকজনের মুখে শুনেছি গৃহবধু লাকিকে প্রায় শাহিন মারপিট ও নির্যাতন করত। এটা একটা অপরাধ। পাটগ্রাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম হাফিজ বলেন, লাকি বেগমের বাবা বাদি হয়ে থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে হত্যা না আত্মহত্যা এ বিষয়ে জানা যাবে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *