গঙ্গাচড়ায় বন্যায় প্রায় ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি : মানুষের দুর্ভোগ চরমে

রংপুর

আব্দুল বারী দুলাল,গঙ্গাচড়া রংপুর.

ভয়াল রুপ নিয়েছে তিস্তা। ফুলে ফেপে উঠেছে। এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্যা বলে এলাকাবাসী জানান। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নতুন কওে পানি বৃদ্ধিও কারনে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদী চরাঞ্চলসহ তিস্তা অববাহিকার প্রায় ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। পানি বৃদ্ধিও কারনে গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক এলাকায় সদ্য নির্মিত একটি বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে গজঘন্টা ইউনিয়নের গাউছিয়া বাজার, রাজবল্লব , একনাথ, জয়দেব মর্নেয়া ইউনিয়নের আলাল চর, নিলার পাড়া, ভাঙ্গাগড়া, তালপট্টি এলাকার প্রায় ৩ হাজার পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়েছে। তাছাড়া তিস্তা ব্যারাজের ভাটি এলাকা উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের নোহালী, চর নোহালী, বাগডোহরা, মিনার বাজার, চর বাগডোহরা ও নোহালী সাপমারী, আলম বিদিতর ইউনিয়নের হাজীপাড়া ও ব্যাংক পাড়া, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, উত্তর চিলাখাল, মটুকপুর, বিন বিনা মাঝের চর, সাউদপাড়া ও বাবুরটারী বাঁধের পাড়. গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর ও গান্নার পাড়, লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের শংকর দহ, বাগেরহাট পূর্ব ইচলী, জয়রাম ওঝা, পশ্চিম ইচলী, মহিপুর ও কলাগাছি এলাকায় আরো প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার রাত থেকে পানিবৃদ্ধির কারনে অনেকে নিদ্রাহীন রাত যাপন করেছেন। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের ঘরে খাবার থাকলেও রান্না করতে পারছেনা। পানিবন্দি  লোকজন অর্ধাহাওে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। পানিবন্দি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চরাঞ্চলে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা কিংবা কলা গাছের ভেলা। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মালিকরা। স্থানীয় লোকজন বলছেন, এঁটাই এবারে বড় বন্যা। বন্যায় ভেসে গেছে অনেকের পুকুরের মাছ। বিনবিনা এবং পুর্ব ইচলি এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় লোকজন বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। গত দুই দিনে প্রায় ৫০ পরিবারের বাড়িঘর তিস্তায় বিলীন হয়েছে।

মর্নেয়া ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী আজাদ বলেন, ছালাপাকে বাঁধভাঙ্গার কারনে আমার ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। পাকা রাস্তা হুমকির মুখে। পানি বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাজু বলেন, ভয়াবহ অবস্থা। চিলাখাল, সাউথপাড়া, আলে কিসামত, বিনবিনা এলাকায় প্রায় ১২’শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, মানুষের অবস্থা খুবেই করুন। চারিদিকে পানি আর পানি। বিনবিনা এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, পানিবৃদ্ধির কারনে তার ইউনিয়নের শংকরদহ, ইচলি, জয়রাম ওঝা ও বাগেরহাট এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পূব ইচলি এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

উপজেলা ত্রান অফিস সুত্রে জানাযায়, এ পর্যন্ত কোলকোন্দ ইউনিয়নে ৫ টন চাল ও ২শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং  লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে ৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পুর্বাভাস ও সতর্কি করন সুত্র থেকে জানা যায় গতকাল বৃহষ্পতিবার বিকাল ৩ টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২.৬০) ১২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *